অ্যাব্রোমা আগষ্টা (Abroma Augusta) By অব্যর্থ মাদারটিংচার ও ভারতীয় ভেষজ
বইয়ের নাম : অব্যর্থ মাদারটিংচার ও ভারতীয় ভেষজ
লেখকঃ অধ্যাপক ডাঃ এ. কে. চাকলাদার [M.A. B.Ed, DHMS (CAL)]
পরিচয় – বাংলা নাম ওলট কম্বল। প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই উদ্ভিদের উল্লেখ আছে। ইহার শিকড়, ছাল এবং পাতা হতে মাদার টিংচার প্রস্তুত করা হয়। ইহার রস রজোদুষ্টি, প্রদর এবং অর্শরোগ নিবারক। মাত্রা Q ৫ হতে ১০ ফোঁটা, প্রত্যহ ৩/৪ বার। ইহার পাতার রস বহুমুত্র রোগের উপকারী।
উপকারিতা – বহুমুত্র, শর্করা যুক্ত মৃত্র, মৃত্রের পরিমাণ খুব বেশী, বার বার প্রস্রাবের পরই পিপাসা, মুখ শুষ্ক, স্রাব দুর্গন্ধ, কখনো ঘোলা প্রস্রাব। রাত্রে বারে বারে প্রস্রাব, মূত্র নালীর মুখে জ্বালা পোড়া, সমস্ত শরীরে জ্বালা উপকারী।
জনন ইন্দ্রিয় – অতি সহজেই প্রস্রাব পড়ে যায়, মূত্রনালীর মুখ ছিদ্র নির্গত হয়। এই জন্য লিংগ ত্বকের মুখের চারিদিকে সাদা বর্ণের মত এবং এই স্থানে চুলকানি, বেদনা ও জ্বালা বোধ, সহবাসের অক্ষমতা। অন্ডকোষ ফোলা, অন্ডকোষ ঝুলে পড়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে উপকারী।
স্ত্রী জনন ইন্দ্রিয় – ঋতু অনিয়মিত, নিয়মিত সময়ের বহু পূর্বে প্রকাশ লাভ, খুব অল্পদিন বা অনেক দিন পর্যন্ত থাকে। ঋতুর ১/২ দিন পূর্বে অথবা ঋতুর সময় তল পেটে শূল বেদনা। রক্তের রঙ কালো ও ঘন, স্রাব অত্যন্ত বেশী বা সামান্য এবং বিবর্ণ। রজ কষ্ট এবং রজ লোপ উভয় অবস্থায় উপকারী। জরায়ু দোষ, পাতলা চেহারা বিশিষ্ট বালিকাদের জলের মত পাতলা স্রাব নির্গত হয়।
শ্বাসযন্ত্র – সন্ধ্যা ও রাত্রে কাশি বাড়ে। পুঁজবৎ কাশি ওঠে এবং বুকে বেদনা অনুভব। ঠান্ডায় কাশের উদ্রেক, সহজেই গয়ার উঠে এবং কাশতে গেলে বুকে লাগে। কাশির সময় বুক চেপে ধরতে হয়। প্রচুর পরিমাণে গয়ার সহ ব্রংকাইটিসের লক্ষণ। ব্রংকো নিওমোনিয়ায় উপকারী। গয়ার সাদাটে। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত এবং হৃদপিন্ডের ও ফুসফুসে তাপ লক্ষণ অতি প্রকট ভাবে প্রকাশ।
হৃদযন্ত্র – হৃদযন্ত্রের ভয়ানক দুর্বলতা সহ উত্কষ্ঠা, অস্বস্থি বোধ, ধড়ফড়, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া অনিয়মিত, ক্ষীণ এবং মূর্ছাভাব।
অন্যান্য লক্ষণ – ঘাড় মেরুদন্ডের দুর্বলতা, পিঠে বেদনা, সর্বাংগেই যেন শিথিলতার ভাব, কোমরের অবশ ভাব সহ কিডনীস্থানে বেদনা। এছাড়া চর্ম লক্ষণ লক্ষণীয়। চর্মের চুলকানি, গায়ে ছোট ছোট ফোড়া। রাত্রে ভাল ঘুম হয় না। বার বার প্রস্রাবের উদ্রেক।
চারিত্রিক লক্ষণ – অত্যন্ত অশান্তি, ক্লান্ত ভাব, অবসন্ন বোধ, শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে অক্ষম, কাজ করার অনিচ্ছা, খিটখিটে মেজাজ, শারীরিক দুর্বলতা, দ্রুত শীর্ণতা, পক্ষাঘাতের দুর্বলতা। মুখ শুকিয়ে যায় এবং ঘন ঘন পিপাসা। অধিক পরিমাণে মৃত্র নির্গত হয় এবং রাত্রে বৃদ্ধি। নিদ্রাহীনতা অথবা অতৃপ্তিকর স্বপ্ন। ঋতুত্রাস যন্ত্রণাদায়ক এবং অতি সামান্য অথবা অতি স্রাব। তল পেটের উভয় পার্শ্বে বেদনা, ধাতুর গোলযোগ সহ রমণীদের হিষ্টিরিয়া রোগ।
মাত্রা – Q ৫ থেকে ১০ ফোঁটা, প্রত্যহ ৩/৪ বার।